সংবাদদাতা:
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে জেলা এনসিপি আহ্বায়ক অধ্যাপক আখতার আলমের ফৌজদারি দরখাস্তের শুনানি শেষে আগামী ২৪ জুন আদেশের দিন ধার্য করেছেন আদালত। জেলা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিমের আদালতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব ও শুনানি শেষে আদালত এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
জানা যায়, কক্সবাজার পৌরসভার টেকপাড়ার বাসিন্দা ও জেলা নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক অধ্যাপক আখতার আলম বাদী হয়ে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) নাজিম উদ্দিন, এডিসি ইমরান হোসেন এবং আরও দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে এই দরখাস্ত দাখিল করেন।
দরখাস্তে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে কুতুবদিয়া উপজেলার ছৈয়দ নূর নামের এক ব্যক্তিকে চেকে ১৫ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন অধ্যাপক আখতার আলম। ওই চেকটি ডিজঅনার হওয়ায় বাদী এনআই অ্যাক্টের অধীনে মামলা দায়ের করলে ২০২১ সালে যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত আসামী ছৈয়দ নূরকে ১ বছরের সাজা এবং ১৫ লাখ টাকা প্রদানের রায় দেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে রায়ের অর্থ উদ্ধারের জন্য আসামীর অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি থেকে টাকা আদায়ের লক্ষ্যে ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসককে লেভী ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়। জেলা প্রশাসন ওই টাকা প্রদানের জন্য একটি মিস মামলা রুজু করে অ্যাসেসমেন্ট অনুমোদন ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প সম্পাদন করে।
বাদীর অভিযোগ, দীর্ঘ দুই বছর অতিবাহিত হলেও জেলা প্রশাসন থেকে তার প্রাপ্য অর্থ ছাড় করা হয়নি। এর প্রেক্ষিতে আদালত থেকে একাধিকবার তাগিদপত্র ও কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অধ্যাপক আখতার আলমের দাবি, জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ওই অর্থ ছাড়করণের বিপরীতে ৩০ শতাংশ হারে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং টাকা না দেওয়ায় তাকে দীর্ঘ দিন ধরে হয়রানি করা হচ্ছে। এই অভিযোগ এনেই তিনি জেলা জজ আদালতে ফৌজদারি দরখাস্ত দায়ের করেন। আদালত প্রাথমিক শুনানিতে অভিযোগের বিষয়ে নথিপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ২৪ জুন তারিখ ধার্য করেছেন।
এই বিষয়ে বাদীর আইনজীবী ব্যরিস্টার ফয়সাল মাহমুদ অনাবিল বলেন, আদালতের আদেশ অবজ্ঞা ও হয়রানির বিষয়ে আমরা পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেছি। আশা করছি আমার মক্কেল আদালত থেকে ন্যায়বিচার পাবেন।
এছাড়াও এই মামলায় উচ্চ আদালতে প্রতিকার পাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।